চার্বাক মতে, প্রত্যক্ষই (সরাসরি ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান) একমাত্র প্রমাণ কারণ এটিই একমাত্র নিশ্চিত ও ত্রুটিমুক্ত জ্ঞান লাভের উপায়; অনুমান ও অন্যান্য প্রমাণ নির্ভর করে ‘ব্যাপ্তি’ বা অনিবার্য সম্পর্কের উপর, যা সর্বদা নিশ্চিত নয়, তাই সেগুলোকে অলীক বা অনিশ্চিত বলে চার্বাকরা প্রত্যাখ্যান করেন, যা তাদের কঠোর জড়বাদ ও অভিজ্ঞতাবাদ-এর মূল ভিত্তি।
প্রত্যক্ষই একমাত্র প্রমাণ হওয়ার কারণ (Arguments for Pratyaksha as the sole Pramana):
- নিশ্চয়তা ও ত্রুটিমুক্ততা (Certainty and Infallibility): প্রত্যক্ষ জ্ঞান সরাসরি ইন্দ্রিয় ও বস্তুর সংযোগ থেকে আসে, যা অন্য কোনো প্রমাণের উপর নির্ভরশীল নয়। তাই এটিই একমাত্র নির্ভরযোগ্য ও নিশ্চিত জ্ঞান।
- অনুমানের অসারতা (Unreliability of Inference):
- অনুমান প্রমাণ হিসেবে তখনই গৃহীত হয় যখন ‘ব্যাপ্তি’ (invariable concomitance) প্রতিষ্ঠিত হয় (যেমন, ধোঁয়া দেখলে আগুন আছে)।
- চার্বাকদের মতে, এই ‘ব্যাপ্তি’ কখনও নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। কারণ, এমনও হতে পারে যে ধোঁয়া আছে কিন্তু আগুন নেই (যেমন, ধোঁয়ার মতো দেখতে অন্য কিছু), অথবা আগুন আছে কিন্তু ধোঁয়া নেই (যেমন, পেট্রোলিয়াম)।
- ‘ব্যাপ্তি’ সম্পর্ক (সাপেক্ষ) অনুমানের চেয়ে দুর্বল, তাই অনুমানকে প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
- অন্যান্য প্রমাণের প্রত্যাখ্যান (Rejection of Other Pramanas): অনুমান, উপমান (তুলনা) ও শব্দ (শাস্ত্র বা সাক্ষ্য) – এই প্রমাণগুলো প্রত্যক্ষের উপর নির্ভরশীল অথবা অনিশ্চিত। যেহেতু প্রত্যক্ষই একমাত্র নিশ্চিত, তাই এগুলো অপ্রয়োজনীয়।
- জড়বাদ ও অভিজ্ঞতাবাদের ভিত্তি (Basis of Materialism & Empiricism): চার্বাক দর্শন মনে করে যে যা কিছু ইন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রত্যক্ষ করা যায় তাই বাস্তব। আত্মা, ঈশ্বর, পরলোক—এগুলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, তাই এগুলো অলীক। এই জ্ঞানতত্ত্বই তাদের জড়বাদী বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দিয়েছে।
সংক্ষেপে, চার্বাকদের কাছে, ইন্দ্রিয়লব্ধ প্রত্যক্ষ জ্ঞানই একমাত্র জ্ঞানের উৎস এবং ভিত্তি, কারণ এটিই একমাত্র প্রমাণ যা সন্দেহাতীতভাবে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, যেখানে অনুমান বা অন্য কোনো প্রমাণ সর্বদা সন্দেহ ও অনিশ্চয়তার অবকাশ রাখে।