মহাযানী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ স্তরের শূন্য বা বন্ধু স্থানের অধিকারী হলেন আদি বুদ্ধ বা ধ্যানী বৃদ্ধ। ধ্যানী বুদ্ধের ধারণা হল মূলত চিরন্তন ধ্যান মুদ্রায় আসীন এবং সৃষ্টি থেকে বিমূখ প্রকৃতির। আমরা প্রধানত পাঁচটি ধ্যানী বুদ্ধের মূর্তি সম্বন্ধে জানতে পারি। এগুলি হল-বৈরোচন, অক্ষ্যভ্য, রত্নসম্ভব, অমিতাভ, অমোঘসিদ্ধি এবং বজ্রসত্ত্ব। মহানন্দা-করতোয়া উপত্যকায় অবস্থিত বৌদ্ধ ধর্মচর্চা কেন্দ্র, যথা-সোমপুর, জগদ্দল, নন্দদীর্ঘী, কোটিবর্ষ প্রভৃতি থেকে আমরা অসংখ্য ধ্যানী বৃদ্ধের প্রতিকৃতি ও মূর্তি পাই। ধ্যানী বুদ্ধ বা আদি বুদ্ধের প্রতিকৃতিগুলির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল প্রত্যেকটি ধ্যানী বুদ্ধের লঙ্গে শক্তি বা সহযোগী হিসেবে একটি করে নারীমূর্তি রয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, বৈরোচনের সঙ্গে বজ্রধাতীশ্বরী, রত্নসম্ভবের মামাকি অমিতাভের পাণ্ডরা ইত্যাদি।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থেকে ধ্যানী বুদ্ধ অক্ষ্যভ্য-র একটি ভূমিস্পর্শমুদ্রায় উপবিষ্ট একটি মূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে। মূর্তিটির কালসীমা দশম শতাব্দীর মধ্যে সৃষ্ট বলে অনুমান করা হয়েছে। এ ছাড়াও গঙ্গারামপুরের পিছলি গ্রাম থেকে ধ্যানী বুদ্ধের বজ্র আসন মুদ্রায় উপবিষ্ট আরেকটি মূর্তি প্রাপ্ত হয়েছে।
মহানন্দা-করতোয়া উপত্যকা অঞ্চলের স্থাপত্য কলা শিল্পীরা বুদ্ধের জীবন ও ধ্যানকালের বিভিন্ন প্রতিকৃতি নিজেদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। এ ছাড়াও দিনাজপুর জেলা থেকে প্রাপ্ত ছোটো ব্রোঞ্জমূর্তিগুলি থেকে মনে করা হয় যে এগুলি প্রধানত বণিক শ্রেণির দ্বারা প্রদত্ত হত। যাতে বহির্বাণিজ্য ও অন্তর্বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তাদের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। এই ছোটো ধ্যানী বুদ্ধের মূর্তিগুলি খুব কম অলংকৃত হত।