উত্তরবঙ্গে মানববসতির ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। ভারতে মানবপ্রজাতি প্রবাহের সবকটি ধারা এই ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেছে। আর্যদের অনেক আগে দ্রাবিড়রা এখানে রাজত্ব করেছেন, তারও আগে অস্ট্রিকেরা কৃষির বিকাশ ঘটিয়েছেন, এমনকি মধ্যপ্রস্তর যুগে ভারতের প্রথম মানবগোষ্ঠী নেগ্রিটোরাও একদিন এখানে পদচারণা করেছেন এবং এই পথ দিয়েই চলে গেছেন সুদূর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃত ভূখণ্ডের দিকে। কিন্তু নেগ্রিটোগণ মাত্র খ্রিস্টপূর্ব দশ সহস্র বৎসর পূর্বের লোক অথচ বিশ্বে মানববিকাশের ধারায় ভারতের যে নিশ্চিত ভূমিকা ছিল, উত্তরবঙ্গের ওপর সেই ভূমিকা পালনের কতটুকু দায়িত্ব ছিল, ‘হোমিনিড’ গোষ্ঠীর জীবাশ্ম উত্তরবঙ্গের মাটিতে আবিষ্কৃত না হওয়া পর্যন্ত, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কোনো মন্তব্য করা কঠিন। তবে প্রাপ্ত তথ্যাদি ও পন্ডিতদের মতবাদের অনুসরণে একথার অনুমান করা যায় যে-প্রায় মানবদের পূর্ব-পশ্চিমের যাত্রাপথের অন্তর্ভূক্ত ছিল হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গ।
মানববিকাশের ধারা ও উত্তরবঙ্গ: পন্ডিতদের ধারণা, পৃথিবীর বয়স প্রায় 200 কোটি বছর হলেও, এই পৃথিবীতে মানুষের বিকাশধারার সূত্রপাত মাত্র আড়াই কোটি বছর আগে। অর্থাৎ ‘মায়োসিন’ যুগের প্রথমে ‘হোমিনয়েডে’র থেকে ‘হোমিনিড’ গোত্রীয় প্রাণীদেহে বিবর্তনের মধ্যে দিয়েই মানববিকাশের দীর্ঘধারার সূচনা হয়। প্রায় ৪০ লক্ষ বছর আগে ‘প্রায় মানবদের একটি শাখা ‘রামাপিথেকাস’-গণ ভারতের মাটিতেই বর্ধিত ও বিবর্তিত হয়েছিল, ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রাপ্ত তাদের জীবাশ্ম থেকেই তা প্রমাণিত হয়। বিখ্যাত জীবাশ্মবিদ লিকির মতে এই ‘রামাপিথেকাস’গণই হল ‘অস্ট্রালোপিথেকাস রোবাস্টাস’, যাঁরা আফ্রিকা মহাদেশে বিচরণ করেছে আজ থেকে 20 লক্ষ বছর পূর্বে। একসময় আফ্রিকার গণ্ডি ছাড়িয়ে ‘অস্ট্রালোপিথেকাস’রা ছড়িয়ে পড়ে ভূমধ্যসাগর হয়ে ভারতের দিকে এবং তারপরেI দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। আবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আদি-প্রস্তর-যুগের সূত্রপাতে ‘পিথেকান ঘোপাস’-গণ বিবর্তিত হয়ে উঠেছিল ‘হোমো-ইরেক্টাস’ বা পূর্ণ মানবে এবং বর্মা ও ভারতের মধ্যে দিয়ে তারাও ছড়িয়ে পড়ে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশে। পিথেকানথ্রোপাস-দের হাতিয়ার, করোটি ও কক্কাল পাওয়া গেছে ওইসব মহাদেশে।
আমাদের পক্ষে প্রয়োজনীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হল এই যে, ব্রহ্মদেশ ও অসমের মধ্যে দিয়ে ভারতে প্রবিষ্ট এবং ভারত থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রস্থিত এই সব আদি মানব পিথেকানথ্রপাস বা প্রায় মানব অস্ট্রালোপিথেকাসরা অবশ্যই হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের ওপর দিয়ে যাতায়াত করেছে; কারণ-দক্ষিণ ও পূর্ববঙ্গ খ্রিস্টপূর্ব চার হাজার বছর আগেও জলমগ্ন ছিল এবং প্রাগৈতিহাসিক এই মানবশ্রেণির পক্ষে নৌকো তৈরি একেবারেই অবাস্তব ব্যাপার ছিল। ভবিষ্যৎকালের গবেষণার এ প্রসঙ্গে হয়তো আরো ব্যাপক আলোকপাত করা সম্ভব হবে।
∎ নেগ্রিটো জাতিপ্রবাহ ও উত্তরবঙ্গ: ভারতের শেষ তুষার যুগের পর থেকে ঐতিহাসিক কালের সূত্রপাতের মধ্যবর্তী সময়ে উত্তরবঙ্গের বিশাল প্রান্তরে যে দুটি প্রধান মানবগোষ্ঠীর স্রোত বয়ে গেছে, তাদের মধ্যে প্রথমে এসেছিল নেগ্রিটোগণ। এদের মূল নিবাস ছিল আফ্রিকা এবং প্রধান জীবিকা ছিল পশুশিকার। তা ছাড়া অরণ্য-ফলমূল সংগ্রহেও ক্ষুন্নিবৃত্তি করে বেঁচেছিল এরা। জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য, ফলমূলের অভাবজনিত প্রেরণায় অথবা শিকার যোগ্য প্রাণীদের পশ্চাদ্ধাবন করতে করতেই এরা বেরিয়ে পড়েছিল আফ্রিকা থেকে এবং মধ্যপ্রাচ্য পেরিয়ে একদা ভারতে প্রবেশ করেছিল-খ্রিষ্টপূর্ব দশ সহস্রাব্দের কাছাকাছি সময়ে।
প্রাচীন ভারতের ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায়, নেগ্রিটোগণ ভারতের সর্বত্র বিচরণের সুবিধা পায়নি। কারণ, তৎপূর্বে ভারতে চতুর্থ তুষার যুগ ও তৎপূর্ববর্তী তৃতীয় হিমবাহযুগে উত্তর ভারতের বিস্তৃত সমতলভাগ অবনত ও জলমগ্ন হয়ে যায় এবং আত্ম নুমানিক 2000 খ্রিস্টপূর্বের আগে তা জনবসতির যোগ্য হয়ে ওঠেনি। তাই অনুমান করা হয় যে, নেগ্রিটোগণ ভারতের পার্বত্যময় উচ্চভূমি বা দক্ষিণের মালভূমি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এদের একটি শাখা আরাবল্লী পর্বতমালা পেরিয়ে দক্ষিণ ভারত, ঘুরে, এছাটনাগপুর, রাজমহল হয়ে উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করে এবং অপর শাখাটি হিমালয় সন্নিহিত পার্বত্য-উচ্চভূমির পথে উত্তরবঙ্গে উপনীত হয়। এই দুটি পথেই মধ্য ও নব্য প্রস্তরযুগীয় হাতিয়ারের নিদর্শনগুলি থেকে সে অনুমান বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে।
আজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নেগ্রিটোদের ব্যাপক অবস্থিতি থেকে অনুমান করা হয় যে, এরা অসম ও ব্রহ্মপুত্রের পথেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উপনীত হয় এবং সেক্ষেত্রে হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের পথে প্রস্থান করা ছাড়া এই অনুন্নত মানবসম্প্রদায়ের অন্য কোনো গত্যন্তর থাকার কথা নয়।
আধুনিক ভারতে নেগ্রিটোদের বংশধরগণের অবস্থিতিও উক্ত পথ-পরিক্রমার তত্ত্বকে প্রমাণ করে। বর্তমানকালেও এঁদের বংশধর বলে চিহ্নিত হয়েছেন- ত্রিবাঙ্কুর পর্বতশ্রেণি ও কোচিনে বসবাসকারী কাদার ও পালয়গণ, ওয়ানাদের, ইরুলাগণ, রাজমহল পাহাড়ের কয়েকটি আদিবাসী এবং অসমের আঙ্গামি শ্রেণির নাগা-সম্প্রদায়। বাদবাকি ভারতস্থিত নেগ্রিটোগণ হয় বিলুপ্ত হয়েছে নতুবা ভারতের পরবর্তী জনপ্রবাহ অস্ট্রিক সম্পদায়ের মধ্যে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
যাই হোক, উত্তরবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রায় যাযাবর নেগ্রিটোগোষ্ঠী যে একটা বসবাস করেছিল এবং এই পথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রবেশ করেছিল, এতে আজ, সন্দেহের অবকাশ নেই বললেই চলে।
অস্ট্রিক মানবগোষ্ঠী ও উত্তরবঙ্গ: নেগ্রিটোদের পরে আনুমানিক 500 খ্রিস্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি সময়ে ভারতে প্রবেশ করে অস্ট্রিক-জনগোষ্ঠী। এদেরও প্রবেশ ঘটেছিল ভারতের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে। ভারতবর্ষে এই মানবগোষ্ঠীর ধারাও প্রবাহিত হয় সেই জনপথে যে পথ বেয়ে একদা এগিয়ে গিয়েছিল নেগ্রিটো জনগোষ্ঠী। তবে নেগ্রিটোরা ছিল যাযাবর শ্রেণি: খাদ্য সংগ্রহই ছিল তাদের জীবন-চর্চা। কিন্তু অস্ট্রিকগোষ্ঠীর মানুষ চাষাবাদ জানত এবং তারা গড়ে তোলে কৃষিভিত্তিক স্থায়ী জনপদ; স্থায়ী আবাস-গৃহযুক্ত গ্রামীণ সংস্কৃতি। যদিও নব্য প্রস্তরযুগীয় সংস্কৃতি নিয়ে এরা ভারতে এসেছিল কিন্তু দ্রাবিড়গণের ভারতাগমনের আগেই এরা তাম্রযুগে প্রবেশ করেছিল, তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই বললেই চলে। নৃতাত্বিক বিচারে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংখ্যাধিক্য মানুষের মধ্যে অস্ট্রিক রক্ত ও শারীর গঠন লক্ষণীয়। আর্য-সমাজব্যবস্থার মধ্যে অধিগৃহীত এই জনগোষ্ঠী নিম্নবর্ণীয় হিন্দুসম্প্রদায়ের বৃহত্তর অংশ গড়ে তোলে।
অস্ট্রিক-জনগোষ্ঠী বিপুল সংখ্যায় উত্তরবঙ্গেও প্রবেশ করেছিল। তার মধ্যে কিছু সংখ্যক অসম ও ব্রহ্মদেশের পথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। যাই হোক ভারত তথা উত্তরবঙ্গের জনজীবনে অস্ট্রিকেরা শুধু নৃতাত্ত্বিক অস্তিত্বই রক্ষা করেছে তা নয়-আমাদের ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির মধ্যে রেখে গেছে অবিনশ্বর ছাপ। ভারতে এখনও অস্ট্রিক ভাষায় কথা বলে-কোল ও মুন্ডাগণ, যাদের ভাষায় আজও ময়ূরকে বলা হয় ‘মোর্ক’ (যা মূল অস্ট্রিক), যা থেকে হিন্দি ‘মোর’ এবং বাংলা ‘ময়ূর’ শব্দের জন্ম।
■ উত্তরবঙ্গে মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠী: ভারতে আর্যদের আগমনের পূর্ববর্তীকালে মঙ্গোলীয় ও আত্মানীয় জনগোষ্ঠী এদেশে আসেন। আনুমানিক দুই হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দে মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর একটি ধারা বর্মা সীমান্ত এবং ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা ধরে অসম ও প্রান্তিক উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করে। এদের আরেকটি শাখা তিব্বত হয়ে নেপাল, সিকিম ও ভুটানের পথে উত্তর ভারত তথা উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করে। প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থাদিতে এদের ‘কিরাত’ জাতি বলে অভিহিত করা হয়েছে। প্রান্তিক উত্তরবঙ্গ ও অসমের রাজনীতি, সমাজ-গঠন, ভাষাভঙ্গি ও সংস্কৃতির মধ্যে মঙ্গোলীয় গোষ্ঠীর মানুষের প্রত্যক্ষ দান ও প্রভাব আজ পর্যন্ত ক্রিয়াশীল।
আত্মানীয় নরগোষ্ঠী: আত্মানীয় নরগোষ্ঠীর তিনটি শাখা বিভিন্ন সময়ে ভারতে প্রবেশ করে, যথা-আল্লানীয়, দিনারিক ও আর্মেনীয়। এরা ভারতে এসেছিল মধ্য এশিয়ার পার্বত্যভূমি থেকে। আল্লানীয় ও দিনারিক গোষ্ঠীর লোকই ভারতের বৃহত্তর ভূখন্ডে ছড়িয়ে পড়ে: তন্মধ্যে আবার নৃতাত্ত্বিক বিচারে বাঙালিদের মধ্যে দিনারিক নরগোষ্ঠীর প্রভাব সর্বাধিক ছিল। যাই হোক, জনগঠনে এসব শ্রেণির মানবগোষ্ঠীয় মিশ্রণ বিশেষভাবে চিহ্নিত করা গেলেও ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দিনারিক গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ প্রভাব আজ আর কিন্তু সুস্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায় না।
ভারত তথা উত্তরবঙ্গে দ্রাবিড় জনগোষ্ঠী: অস্ট্রিকদের পরে এবং আর্যদের আগে ভারতে প্রবেশ করেছিল দ্রাবিড় জাতি। এরা এসেছিল ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে। কিন্তু ভূমধ্যসাগরীয় এবং দ্রাবিড় ভাষী হলেও এই নরগোষ্ঠীর মধ্যে নৃতাত্ত্বিক গঠনের ব্যাপক বৈচিত্র্য ও পার্থক্য ছিল। এদের মধ্যে প্রথম ধারাটি ছিল মধ্যম উচ্চতাসম্পন্ন, কৃষ্ণকায় ও লঘু শরীর। আনুমানিক 4500 খ্রিস্টপূর্বাব্দে এরা ভারতে প্রবেশ করে এবং মূলত দক্ষিণ ভারতে প্রতিপত্তিলাভ করে। পূর্ববর্তী অস্ট্রিকগোষ্ঠী যেমন ছিলেন কৃষিকেন্দ্রিক সভ্যতার বাহক, নবাগত দ্রাবিড়রা ঠিক উলটো অর্থাৎ, নগরকেন্দ্রিক সভ্যতার ধারক ও বাহক। তারা ভারতের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী নগররাষ্ট্রের পত্তন করে এবং সুপরিকল্পিত স্থাপত্যকর্মে নিপুণ সৌধময় নগরী গড়ে তুলতে থাকে। ভারত-প্রবেশের পথে এবং ভারতে ঔপনিবেশ গঠনের প্রয়াসে শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়ে আর্যগণ সেই ‘দাস-দস্যু’ জাতির সঙ্গে দীর্ঘপ্রসারী সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিল। সেই ‘দাস-দস্যু’ জাতিই আসলে দ্রাবিড়-জাতি। তাদের কিছু অংশ পূর্ব ভারতে ছোটনাগপুরের রাঢ়ির পশ্চিমবঙ্গে এবং উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্রভূমিতেও দ্রাবিড় রাজশক্তির উত্থান ঘটিয়েছিল প্রাক্-আর্যযুগে। বর্ধমান জেলায় অজয় নদীর তীরে আবিষ্কৃত পান্ডুরাজার ঢিবিতে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে প্রাপ্ত লৌকিক জনজীবনের সকল চিহ্নই বোধহয় সেখানে উন্নত অস্ট্রিক জনপদের পরিচিতি তুলে ধরে এবং তৃতীয় স্তরে প্রাপ্ত পোড়ামাটির পুরুষমূর্তি দুটির মুখাবয়ব, আয়ত নয়ন, দীর্ঘ নাসিকা, বিস্তৃত কর্ণ, সুস্পষ্ট চিবুক, কৌণিক শিরস্ত্রাণ, পার্শ্বস্থ ক্ষুদ্রাকৃতি লৌহ-তরবারিতে (শিল্পীর আঁকা বিদেশি আক্রমণকারীর প্রতিচ্ছবি)। এই পুরুষ মূর্তিদ্বয়-তৃতীয় ধারায় আগত দ্রাবিড় শ্রেণির নরগণের প্রতিচ্ছবি বলেই মনে হয়। তা যদি হয় তবে বলতে হয়, খ্রিস্টপূর্ব একাদশ শতাব্দীতে এতদঞ্চলে দ্রাবিড় রাজশক্তির আক্রমণ ঘটে এবং শিল্পী সেই বহিরাগত শত্রুর মৃন্ময় মূর্তি তৈরি করেন। তার কিছুকাল পরেই দ্রাবিড় আক্রমণে অস্ট্রিক জনপদের এই সচ্ছল নগর, বন্দর বা রাজধানীটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।