অবিভক্ত বাংলার দিনাজপুর, বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম ও পুরুলিয়া অঞ্চলে পালপর্বীয় কয়েকটি তীর্থঙ্কর মূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে। যা বাংলায় বৌদ্ধধর্মের মতো জৈনধর্মের উপস্থিতির সাক্ষ্য বহন করে। খ্রিস্টপূর্বে তৃতীয় শতকের মৌর্যযুগে দিনাজপুর যা পুণ্ড্রবর্ধনভূক্তির অন্তর্গত ছিল এখানে জৈনধর্মের সমৃদ্ধির কথা জানা যায়। জৈন সাহিত্য ‘প্রজ্ঞাপারমিতা’ থেকে কোটিবর্ষ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই অঞ্চলটিকে জৈনধর্মের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে সূচিত করা হয়েছে। পুনর্ভবা নদীর মাধ্যমে পুণ্ড্রবর্ধনভুত্তি ও পাটলিপুত্র, ইন্দ্রপ্রস্থের সঙ্গে যোগাযোগ হত বলেও উল্লেখ আছে। বলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল, যথা-পুরুলিয়া, বাঁকুড়া অঞ্চলে যে মূর্তিগুলি প্রাপ্ত হয়েছে তা বেশিরভাগই ব্রোঞ্জ ও ক্লোরাইট পাথরে নির্মিত। আসানসোলের নিকট ঋষভনাথের কায়োৎসর্গ ভঙ্গিতে দন্ডায়মান একটি অতি মনোরম মূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে। পুরুলিয়া জেলায় পাকভিরা জৈন মন্দির, সাত দেউল, পার্শ্বনাথ মন্দির, হারমাসরা জৈন মন্দির ছাড়াও তীর্থঙ্করদের প্রস্তরমূর্তি প্রাপ্ত হয়েছে। নীহারঞ্জন রায় এই অঞ্চলের ভগ্ন জৈন মন্দিরগুলি থেকে ধারণা করেছেন যে, নবম থেকে একাদশ শতকের মধ্যে উত্ত অঞ্চলগুলিতে জৈনধর্ম সুপরিচিত ছিল।