গৌড় অধিবাসীর স্বভাবচরিত্র সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো। (Write a short note on the nature of the people of Gour.)

চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙের বিবরণ থেকে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীর বাংলার বিভিন্ন জনপদের অধিবাসীদের স্বভাব-প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা করা যেতে পারে। চৈনিক পরিব্রাজক বলেছেন যে, সমতটের অধিবাসীরা ছিল কষ্টসহিষু, তাম্রলিপ্তিবাসীরা ছিল কষ্টসহিমু ও সাহসী, কর্ণসুবর্ণবাসীরা ছিল সৎ ও অমায়িক। পুণ্ড্রবর্ধন, সমতট এবং কর্ণসুবর্ণ-এইসব জনপদের অধিবাসীদের মধ্যে বিশেষভাবে বিদ্যার প্রতি অনুরাগ দেখা যায়। চৈনিক পরিব্রাজক ইৎ-সিং জানিয়েছেন যে, তাম্রলিপ্তের একটি বৌদ্ধবিহারের অধিবাসীদের অতি উন্নত নৈতিক মানের কথা। ক্ষেমেন্দ্র তাঁর ‘দশোপদেশ’ নামক গ্রন্থে বলেছেন যে, কাশ্মীরে গৌড় থেকে আগত ছাত্ররা বাসবাস করতে করতে ক্রমশ দৈহিক বল ও পুষ্টি অর্জন করে এবং দুর্দান্ত প্রকৃতির হয়ে ওঠে। বিজ্ঞানেশ্বরের ‘মিতাক্ষরা’ থেকে জানা যায় যে, গৌড়বাসীরা সাধারণত কলহপরায়ণ ছিল। ভট্টভবদেবের ‘প্রায়শ্চিত শুকরণ’-এ ব্রহ্মহত্যা, মদ্যপান, চৌর্য, ব্যাভিচার প্রভৃতি জঘন্য অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি ও প্রায়শ্চিত্তের বিধান রয়েছে। এর ভিত্তিতে ধরে নেওয়া যায় যে গৌড়বঙ্গবাসীরা সাধারণত সততার পথেই চলতেন এবং সত্যতা, পবিত্রতা, দয়া, সংযম প্রভতি সদগুণের সমাদর করতেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading