ন্যায় দর্শন অনুযায়ী, অসাধারণ প্রত্যক্ষ (Alaukika Pratyaksha) তিন প্রকার: সামান্যলক্ষণ প্রত্যক্ষ (সার্বজনীন ধারণার প্রত্যক্ষ), জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ (স্মৃতির মাধ্যমে অন্য ইন্দ্রিয়ের কাজ করা) এবং যোগজ প্রত্যক্ষ (যোগীর অতিপ্রাকৃত জ্ঞান)। এই প্রত্যক্ষগুলি সাধারণ ইন্দ্রিয়-বিষয় সংযোগ ছাড়াই ঘটে এবং বিশেষ জ্ঞান অর্জনে সহায়ক, যেমন—কোনো বস্তুর সমস্ত বৈশিষ্ট্য জানা বা অতীত-ভবিষ্যৎ জ্ঞান লাভ করা।
অসাধারণ প্রত্যক্ষের প্রকারভেদ:
১. সামান্যলক্ষণ প্রত্যক্ষ (Sāmānyalakṣaṇa Pratyakṣa):
- ব্যাখ্যা: এটি সার্বজনীন বা সাধারণ ধারণার (Universal) প্রত্যক্ষ। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সাধারণ ধর্মকে অনুভব করার প্রক্রিয়া।
- উদাহরণ: ‘সকল মানুষ মরণশীল’ – এই জ্ঞান লাভ করা, যেখানে একটি বিশেষ মানুষ মরণশীল জেনেও সমস্ত মানুষের মরণশীলতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান হয়।
২. জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ (Jñānalakṣaṇa Pratyakṣa):
- ব্যাখ্যা: এটি একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অন্য ইন্দ্রিয়ের কাজ করার ক্ষমতা, যা স্মৃতি-নির্ভর। অতীত জ্ঞান বা স্মৃতির সাহায্যে বর্তমান ইন্দ্রিয় অন্য ইন্দ্রিয়ের কার্য সম্পন্ন করে।
- উদাহরণ: ‘শীতল জল’ দেখা – এখানে চাক্ষুষ জ্ঞান (দেখা) এবং স্পর্শেন্দ্রিয়ের জ্ঞান (শীতলতা) স্মৃতি ও সংযোগের ফলে এক হয়ে যায়, যা আসলে অতীতের শীতল জলের জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে।
৩. যোগজ প্রত্যক্ষ (Yogaja Pratyakṣa):
- ব্যাখ্যা: এটি যোগী বা সাধকের সাধনালব্ধ অতিপ্রাকৃত বা দিব্য জ্ঞান। এর মাধ্যমে যোগী অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ, সূক্ষ্ম ও দূরবর্তী বিষয়বস্তু প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
- উদাহরণ: ধ্যান বা গভীর সাধনার ফলে কোনো যোগীর পক্ষে অপ্রকট (hidden) বস্তু বা ঘটনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করা।