গুপ্তবংশীয় সম্রাট প্রথম কুমারগুপ্তের শাসনকাল থেকে বুধগুপ্তের রাজত্বকাল পর্যন্ত (414-95 খ্রিস্টাব্দ) পুণ্ড্রবর্ধনভূক্তি অর্থাৎ, উত্তর বাংলা প্রদেশ দত্তবংশীয় শাসনকর্তাদের অধীনে ছিল। বুধগুপ্তের পর ষষ্ঠ শতাব্দীতে পুণ্ড্রবর্ধনের শাসন দত্তবংশীয়দের হস্তচ্যুত হয়ে যায়। 443 খ্রিস্টাব্দে প্রথম কুমারগুপ্ত প্রদত্ত দামোদরপুর তাম্রশাসনে দেখা যায় যে, কুমারগুপ্ত ছিলেন পৃথিবীপতি এবং পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তির উপরিক অর্থাৎ প্রদেশশাসক ছিলেন চিরাতদত্ত। এই অর্থে ‘চিরত’ শব্দটি সংস্কৃত ‘কিরাত’ শব্দের প্রকৃত রূপ। চিরাতদত্ত কোটিবর্ষ বিষয়ের বিষয়পতিকে নিজে নিযুক্ত করেন বলে এই তাম্রশাসনে উল্লেখ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও 447 খ্রিস্টাব্দের দামোদরপুর তাম্রশাসনেও চিরাতদত্তকেই পুণ্ড্রবর্ধন-ভুক্তির উপরিক পদে আসীন থাকতে দেখা যায়।
গুপ্ত সম্রাট বুধগুপ্ত প্রদত্ত 482 খ্রিস্টাব্দ দামোদরপুর তাম্রশাসনে পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তির উপরিক ছিলেন মহারাজ ব্রষ্মদত্ত। এই তাম্রশাসনগুলিতে দত্ত বংশীয় উপরিকগণ গুপ্তকালে অনেকটা সামন্ত বা প্রাদেশিক শাসনকর্তারূপে পরিলক্ষিত হয়েছে। গুপ্ত শাসনগুলিতে দত্ত উপরিকদের নামের বারংবার প্রয়োগ থেকে ধারণা করা যায় যে, তাঁরা পুরুষানুক্রমে পুণ্ড্রবর্ধনভূক্তির শাসনভার চালিয়েছিলেন