প্রাচীন উত্তরবঙ্গের পোশাক ও অলংকার সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত টাকা 14 লেখো। (Write a short note on Dress and Omaments of Ancient North Bengal.)

হিউয়েন সাং লিখেছেন-এদেশের পুরুষেরা টুপি ব্যবহার করত এবং স্ত্রী-লোকেরা স্কন্দ পর্যন্ত বস্তু দ্বারা আবৃত করত। পুরুষের অধোবাসে যেমন ধুতি, মেয়েদের তেমনই শাড়ি। সাধারণত দরিদ্র পুরুষেরা ‘লেঙ্গটি’ এবং উচ্চতর অবস্থার ব্যক্তিগণ ‘হাটু পর্যন্ত ধুতি ব্যবহার করতেন। সেকালের নারীরা ‘বুকবান্ধনা’ নামক একখানা বস্তু, কেউ কেউ বা ‘আগরণ’ এবং ফোতা’ নামক উপরে ও নীচে দুই খণ্ড বস্ত্র পরিধান করতেন। এন্ডির চাদরই ভদ্রলোকের উপযোগী শীতবস্ত্র ছিল, বনাত, শাল, তসর অথবা গরদের বস্তু উচ্চশ্রেণির বিশেষ অবস্থার লোক ব্যতীত সাধারণের ব্যবহারের সামর্থ্য ছিল না। তবে রেশমি বস্ত্রের আমদানির সংবাদ থেকে তাদের প্রাচীন ব্যবহার জানা যায়। উচ্চপদস্থ লোকেদের মধ্যে বিশেষ বিশেষ উপলক্ষ্যে বিশেষ বিশেষ পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা ছিল। জীমূতবাহন দায়ভাগ গ্রন্থে সভা-সমিতির জন্য পৃথক পোশাকের কথা বলছেন। নর্তকী নারীরা পরত পায়ের কল্টা পর্যন্ত বিলম্বিত আঁটোসাঁটো পাজামা, দেহের উত্তরার্ধে কাঁধের উপর দিয়ে ঝুলিয়ে দিত একটি দীর্ঘ ওড়না। সন্ন্যাসী-তপস্যীরা পড়তেন ন্যঙ্গোটি। টসনিক ও মল্লবীরেরা পড়ত উরু পর্যন্ত লম্বিত খাটো আঁটো পাজামা।

নানা কৌশলে সুবিন্যস্ত কেশই ছিল তখনকার দিনের নারী-পুরুষের শিরোভূষণ। পুরুষেরা লম্বাচুল রাখত। নারীদেরও ছিল লম্বামান কেশগুচ্ছ ঘাড়ের উপর খোপা করে বাঁধা কারও কারও মাথার পিছনে এলানো। স্বর্ণালংকারের ব্যবহার খুব কম দেখা যেত। দরিদ্র অবস্থার স্ত্রীলোকেরা হাতে দস্তার খারু ও গলায় প্রবালের মালা পড়ত এবং মধ্যবিত্ত অবস্থার মহিলারা রৌপ্যোলংকার পড়তেন। সধবা নারীরা কপালে পড়তেন কাজলের টিপ এবং সীমন্তে সিঁদুরের রেখা। বাৎসায়ন বলেছেন, গৌড়ীয় পুরুষেরা হস্তশোভী ও চিত্রগ্রাহী লম্বা লম্বা নখ রাখতেন। ঠোঁটে লাক্ষারস এবং খোঁপায় ফুল গোঁজা তরুণীদের বিলাস প্রসাধনের অলা ছিল। যোদ্ধা পাদুকা ব্যবহার করতেন। চর্ম দিয়ে সেই পাদুকা তৈরি হত। সংগতিসম্পন্ন লোকেদের মধ্যে কাষ্ঠ পাদুকারও প্রচলন ছিল।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading