প্রাচীন ভারতের মতো প্রাচীন উত্তর বাংলা ও রাজা-মহারাজ-সামন্ত-মহাসাম স্ত প্রভৃতিদের প্রধান বিহারই ছিল শিকার করা বা মৃগয়া। আর অন্ত্যজ ও ম্লেচ্ছ শবর, পুলিন্দ, চণ্ডাল, ব্যাধ প্রভৃতি অরণ্যচারীদের শিকারই ছিল প্রধান উপজীব্য ও বিহার দুটোই। নানান গৃহা এবং ফলকগুলি থেকে জানা যায় কুস্তি বা মল্লযুদ্ধ এবং নানান ধরনের দুঃশাধ্য শারীরক্রিয়া ছিল নিম্নকোটির লোকদের অন্যতম বিহার। পবনদূতে নারীদের গণক্রীড়া এবং উদ্যানরচনার উল্লেখ আছে। দ্যুত এবং পাশাখেলা এবং দাবাখেলার প্রচলন ছিল খুব বেশি। পাশাখেলাটা বিবাহোৎসবের একটি প্রধান অঙ্গ বলে বিবেচিত হত। দাবা খেলার প্রচলন (কবে হয়েছিল) বাংলায় যে, কবে হয়েছিল বলা কঠিন তবে চর্যাগীতিতে ঠাকুর অর্থাৎ রাজা, মন্ত্রী, গজধর এবং ‘বড়ে’ এই চারটি গুটি খেলার দান এবং ছকের চৌষট্টি কোঠার বা ঘরের উল্লেখ এমনভাবে পাওয়া যায় যে, মনে হয় দশম-একাদশ শতকের আগেই এই খেলা সারা বাংলায় সুপ্রচলিত হয়েছিল। নিম্নকোটি স্তরে এবং নারীদের মধ্যে কড়ির সাহায্যে নানাপ্রকার খেলা, যথা- গুটি, বা ঘুন্টিখেলা, বাঘবন্দি, ষোলোঘর, দশপচিশ, আড়াইঘর প্রভৃতি তখন থেকেই সূপ্রচলিত ছিল এমন অনুমানে কিছু বাধা নেই। সাংস্কৃতিক, জনতত্ত্বের অনুসন্ধানে বহুদিন ধরে পড়েছে যে, এই সমস্ত খেলা সমগ্র পূর্ব-দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরবন্ধ দেশ ও দ্বীপগুলির সুপ্রাচীন সমাজের একেবারে মৌলিক গৃহক্রীড়া। সর্বানন্দের টীকাসর্বস্ব গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে, বাজি রেখে তখনকার দিনের লোকেরা জুয়া খেলায় অভ্যস্ত ছিল। লোকেরা বাজি রেখে ভেড়া ও মুরগির লড়াই খেলত এবং খেলাতও। রাজ পরিবারে এবং অভিজাতবর্গের পুরুষদের মধ্যে হস্তী ও অশ্বক্রীড়া সুপ্রচলিত ছিল এতে কোনো সন্দেহ নেই।