বজ্রযানী বৌদ্ধধর্মে নারী বুদ্ধ তারা সম্পর্কে লেখো। Write a short note on Tara the Female Buddha in Vajrayani Buddhism.

পালযুগে নির্মিত বেশিরভাগ বৌদ্ধমূর্তি হল বজ্রযানী। ফরিদপুর জেলার উজানী গ্রামে একাদশ শতকের একটি বুদ্ধপ্রতিমা আবিষ্কৃত হয়েছে। এই মূর্তিতে বুদ্ধদেব ভূমিস্পর্শ মুদ্রায় উপবিষ্ট। মূর্তির পাদপীঠ বজ্র ও সপ্তরত্ব উৎকীর্ণ যা বজ্রযানের প্রভাব সুস্পষ্ট করে। এ ছাড়াও বজ্রযানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল দেবীমূর্তি। তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন তারা। বোধিসত্ত্বদের শক্তি ছিলেন তারা। তাঁর রূপ ও প্রকৃতি ছিল বিভিন্ন।

ধ্যানী দেবদেবীদের মধ্যে তারা হলেন অন্যতম। বজ্রযান বৌশ্বধর্মের তিব্বতি শাখার অনুশীলনকারীদের ও বুদ্ধ উপাসকদের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক গুণাবলি, যেমন-করুণা, দয়া, শূন্যতা ইত্যাদি বিকাশের জন্য তারার উপাসনা করা হয়। অষ্টম শতকে বাংলা। পাল সাম্রাজ্যের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে বৌদ্ধধর্ম নতুন রূপলাভ করে। এইসময় জনপ্রিয় বজ্রযানী বৌদ্ধধর্মের জনপ্রিয় দেবী হিসেবে তারা অন্যান্য বোধিসত্ত্বদের মধ্যে স্থান করে নেন। পদ্মসম্ভবের মাধ্যমে তিব্বতেও ভারতীয় বৌদ্ধধর্মের আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে তারা-র উপাসনা ও অনুশীলনগুলিও তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। পরবর্তীকালে তান্ত্রিক শাখায় তিনি ‘সমস্ত বুদ্ধের মা’ এবং ‘নারী বুদ্ধ’ হিসেবে পরিচিতিলাভ করেন, যা সাধারণত বুদ্ধের আলোকিত জ্ঞানকে বোঝায়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading